মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
যশোরের শার্শা উপজেলায় সোনা পাচারকারী চক্রের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক চোরাকারবারি নিহত ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩০টি সোনার বার জব্দ করেছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
নিহত ব্যক্তির নাম অলি মাকড়া (৩৬)। সে শার্শা উপজেলার ফুলপুর গ্রামের জাহান আলীর ছেলে। সোনা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সাজাদিয়া গ্রামের রবিন সরকার (৩৫) ও পাঁচগাছিয়া গ্রামের আবুল কাশেম (৩০)।
পুলিশ জানায়, ভারতে সোনা পাচার হতে পারে এমন খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জামতলার পাঁচপুকুর এলাকার ওরিয়েন্টাল অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সামনে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যশোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শার্শা থানা-পুলিশ যৌথভাবে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখান দিয়ে দ্রুতগামী একটি সাদা প্রাইভেট কার যাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ কারটির গতিরোধ করে। প্রাইভেট কারে থাকা রবিন সরকার ও চালক আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কুমিল্লা থেকে এসেছে বলে জানায়। একপর্যায়ে তাদের দেহ ও প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে রবিনের শরীরে বাঁধা ও প্রাইভেট কারের সামনের দিকে রাখা ৩০টি সোনার বার জব্দ করা হয়। এগুলোর ওজন ৯ কেজি ৭৫৮ গ্রাম। এ ঘটনায় রবিন ও কাশেমকে আটক করা হয়।
পরে আটকদের সোনার বার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় মহাসড়কের দুদিক থেকে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে করে কয়েক ব্যক্তি এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে চার-পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়। চোরাকারবারিদের ছোড়া ককটেলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়া অলি মাকড়া নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।